ঈদ অনেক বড় হয়ে গেছে, আগের মত আনন্দ দেয় না!

ঈদ অনেক বড় হয়ে গেছে, আগের মত আনন্দ দেয় না!

আপনার কাছে ঈদ মানে কি? নিশ্চয়ই আপনার উত্তর হবে – ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঈদ মানে ফ্যামিলির সাথে হাসাহাসি, ঈদ মানে ছোটদের সাথে হাসি তামাশা ও সালামি বিতরণ, ঈদ মানে বড়দের থেকে সালামি নেয়া, ঈদ মানে সারাদিন সব চিন্তা ভুলে আনন্দ করা।

এছাড়াও আরো অনেক উত্তর থাকতে পারে। তবে একটা কথা ভাবুন আপনার বয়স যখন ৯ থেকে ১৬ এর কোঠায় ছিল তখনকার ঈদ এবং এখনকার ঈদ কি একরকম? অধিকাংশ উত্তর হবে না। আমার ক্ষেত্রেও উত্তর হবে “না”।

ছোটবেলায় বড়দের মুখে শুনেছি, বড় হলে মানুষের আনন্দ কমে যায়। আসলে কি সত্যি? আমার তো মনে হচ্ছে সত্যি। অনেকে ভাবে বড় হয়েছি বলে ঈদের আনন্দ হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ছোটদের মাঝেও ঈদের আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি না! এর কারণ কি হতে পারে?

আমার তো মনে হচ্ছে স্বয়ং ঈদের বয়স বেড়ে গেছে। ঈদ আগের তুলনায় অনেক বড় হয়ে গেছে যার কারণে সে আগের মত আনন্দ দিতে পারে না। হয়তো আপনার মতামত ভিন্ন হতে পারে।

একটু স্মৃতিচারণ করি। আমাদের ছোটবেলার ঈদ ছিল – চাঁদরাত থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, সারা এলাকা ঘুরাঘুরি এবং বাজি ফুটানো। সকালে দ্রুত উঠে মায়ের তৈরি সেমাই নাস্তা খেয়ে, দ্রুত গোসল করে, নতুন জামা কাপড় পরে, মা-বাবার থেকে সালামী নিয়ে ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুত হওয়া।

তারপরে ঈদের মাঠে গিয়ে বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা। মুরব্বিদের পাশে কিংবা বন্ধুদের কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের সালাত আদায়। সালাত শেষে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ঘুরে ঘুরে ঈদের সালামি তোলা এবং বন্ধুদের বাড়ি গিয়ে সেমাই নাস্তা করা।

দুপুরের মধ্যে কোন না কোন সমবয়সী কাজিন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসতো। তাদের সাথে মজা করে নদীতে / পুকুরে গোসল। এরপরে জোহরের নামাজ আদায় করে, দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে, সকল বন্ধুদের নিয়ে বিকেলবেলা ঘুরতে বের হওয়া। আশেপাশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সুন্দর জায়গা ঘুরে সন্ধ্যার পরে বাড়িতে ফেরা।

এরপরে একসাথে কাজিনদের সাথে বসে লুডু খেলা কিংবা মজার খাবার তৈরি করে খাওয়া। সকলের সাথে গল্প আড্ডা হাসাহাসিতে তলিয়ে যেত রাত। ঈদের সময় পরিবারের সকল আত্মীয়-স্বজন একসাথে বেড়াতে আসা আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরতম মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এছাড়াও আমাদের ছোটবেলার ঈদের আনন্দ ২০ তম রোজার পর থেকে শুরু হয়ে যেত। ঈদের জন্য নতুন জামা কাপড় ক্রয় থেকে শুরু করে, কার কার থেকে সালামী নিব এর লিস্ট। কেমন যেন মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করতো। পুরনো জামাকাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করে, বাড়ির আঙিনা সহ চারপাশ পরিস্কার করে সবকিছু গুছিয়ে ঈদের জন্য অপেক্ষা করতাম।

কিন্তু এখন লক্ষ্য করেন, আপনার মনের মধ্যে এই অজানা প্রশান্তি আর কাজ করে না। ঈদের আনন্দ আমাদের মনকে আনন্দিত করতে পারেনা। কি যেন এক অচেনা রোগ গ্রাস করেছে আমাদের।

আমাদের কথা না হয় বাদ দিলাম। বর্তমান ৯৫% এই বয়সী (৯ থেকে ১৬ বছর) বাচ্চাদের মধ্যে ঈদের আনন্দ তেমন দেখা যায় না। আমাদের সময় যেমন ঈদ ছিল, এখনকার ঈদ তার থেকে অনেক ভিন্ন। যুগের সাথে সাথে ঈদ এর বয়স বেড়ে গেছে। তাই সে এখন পূর্বের মতো মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ নিয়ে আসে না।

এখন আসি মুরব্বিদের কথায় – একসময় শুনেছি বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঈদের আনন্দ হারিয়ে যায়। আমাদের না হয় বয়স বেড়ে গিয়েছে! কিন্তু অল্প বয়সী বাচ্চাদের কি হলো? তাদের মধ্যে কেন সেই ছোট্ট আমাদের ঈদের আনন্দ নেই?

তাহলে কি যুগের সাথে সাথে ঈদেরও বয়স বেড়ে গিয়েছে? হয়তো তাই,  অথবা না।

নাকি আধুনিক যুগে ঈদ ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ডুবে গিয়েছে? হয়তো তাই,  অথবা না।

আপনার কাছে ঈদের বয়স কত?

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা,

ঈদ মোবারক।

২০২৪, ১১ এপ্রিল।

– শিহাব কাজী, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

প্রথম প্রকাশ ছিল ১১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *