কন্টেন্ট মনিটাইজেশন বর্তমান সমাজের নতুন মহামারী ভাইরাস
তরুণ থেকে তরুণী, যুবক থেকে বৃদ্ধ – সবাই এই নূতন ভাইরাসে আক্রান্ত। হ্যাঁ আমি বলছিলাম বর্তমান সমাজের সবথেকে ভয়ংকর মহামারী ভাইরাস কন্টেন্ট মনিটাইজেশন এর কথা। ২০১৮ সাল থেকে ফেসবুক মনিটাইজেশন চালু হলেও ২০২৫ সালে এসে এই অনলাইন আয়ের মাধ্যমটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক হারে জনপ্রিয় হয়।
এর পিছনে দায়ী বাংলাদেশের কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর। যারা ৩ মাসে ৪৭ লক্ষ টাকা, ১ মাসে ২৭ লক্ষ টাকা ইনকামের কথা বলে তরুণ-তরুণীদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। এছাড়াও সস্তা বেহায়াপনা সো-কল্ড সেলিব্রিটি হওয়ার লালসা তো আছেই।
ভাইরাল হওয়ার নেশা এবং অনলাইন থেকে টাকা ইনকামের নেশায় আমরা প্রতিনিয়ত নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে বিসর্জন দিচ্ছি। সম্পর্কের পবিত্রতা, সত্যিকারের জ্ঞানবোধ, নিজস্ব সিকিউরিটি ও মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে ছুটে চলেছি সো-কল্ড সেলিব্রিটি হওয়ার নেশায়।
অনলাইন জগৎ একটা ট্রাপ। এইখানে আপনার অনেক বন্ধু থাকবে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী থাকবে কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা কতটুকু কার্যকর হয়? মেয়েদের ক্ষেত্রে বলতে গেলে অনলাইনে অনেক ছেলেদের এটেনশন পায়, ছেলেরা তাদের প্রত্যেকটা বিষয়ে সহমত পোষণ করে এবং সাপোর্ট করে।
মেয়েরা ভাবে হয়তো বা এটা তাদের একটা ফ্যামিলি বা তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু আসলে কি তাই? সম্প্রতি “বাংলাদেশ প্রতিদিন” এর একটি নিউজে দেখলাম “অনলাইনে পরিচয়, দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার”।
অনলাইনে যে সকল ছেলেরা মেয়েদের প্রতি অতিরিক্ত কেয়ার ও সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করে, তাদের বেশিরভাগের অন্য উদ্দেশ্য থাকে। মেয়েদেরকে বশ করার সবথেকে সহজ মাধ্যম হলো ফেসবুকে সাপোর্ট করা বা অ্যাটেনশন দেয়া। তথা কন্টেন্ট মনিটাইজেশন, স্টার এগুলোর মধ্যে অ্যাটাচমেন্ট করানো।
ছেলেদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমনই হয়। অনেক মেয়েরা আছে বিভিন্নভাবে অনলাইনে ছেলেদের সাথে প্রতারণা করে টাকা পয়সা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। এটি একটি কমন বিষয় হয়ে গিয়েছে। ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিংবা শারীরিক সম্পর্কের জন্য কোন নির্জন জায়গায় ডেকে ছিনতাই করা হয়।
বিঃদ্রঃ উপরের কথাগুলোর সাথে আপনি একমত নাও হতে পারেন। তবে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র এটা।
তবে এগুলোর থেকে সবথেকে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে সেলিব্রিটি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা মানুষের এটেনশন পাওয়া। সম্প্রতি চালু হওয়া কন্টেন্ট মনিটাইজেশন এটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। এই ভাইরাস আমাদের শরীরের কোন ভাইরাস নয়, এটি আমাদের মনের ভাইরাস।
যেটা সম্পূর্ণ ব্রেনের উপরে প্রভাব ফেলে, ডোপামিন রিলিজের মাধ্যমে আমাদের শান্তি দেয়। মানুষ প্রকৃতপক্ষে অ্যাটেনশন পেতে ভালোবাসে। ফেসবুক এই জিনিসটাকে ক্যাচ করেছে এবং আমাদের মধ্যে ভাইরাস আকারে ইনজেক্ট করেছে।
ফেসবুকের স্টার
বর্তমান সময়ে ফেসবুকে স্টার নিয়ে অনেক মাতামাতি দেখা যাচ্ছে। অনেক অনেক প্রবাসীরা বা দেশীয় ব্যবসায়ীরা দেখতে পাচ্ছি স্টার কিনে মানুষকে ফ্রিতে দান করতেছে। আমার প্রশ্ন – যেই দেশে এক গ্লাস পানি খেতে হলেও ১০ টাকার প্রয়োজন হয় সেই দেশে কেন আপনাকে অন্যজন ফ্রিতে স্টার দিবে?
স্টার সেন্ড করা এবং রিসিভ করার মাধ্যমে অনেকে অনলাইনে পুরো ফ্যামিলি তৈরি করে ফেলেছে। ফেসবুক প্রোফাইলকে তারা পরিবার মনে করে। কিন্তু আমরা ভুলে গেছি আমাদের শৈশব। মানুষের মধ্যে মানুষের ভ্রান্তিত্তবোধ, ভালোবাসা ও সম্মান।
নিজস্ব কাজ কিংবা ফ্যামিলিকে সময় দেওয়া বাদ দিয়ে সারাদিন ফেসবুক লাইভে বসে, মানুষের কাছ থেকে স্টার নেওয়া এবং দেওয়াকে অনেকে কাজ মনে করে। অনেকে তো এভাবে বলে “ফেসবুকে কাজ করে আপনারা সফল হইতে চাইলে আমার পরিবার থেকে ঘুরে আসুন”
একটু ভেঙে বলি – এইখানে ফেসবুক কাজ বলতে বোঝাচ্ছে ভিডিও আপলোড করা, ছবি আপলোড করা কিংবা যেকোনো ধরনের কিছু শেয়ার করা। আর সফলতা বলতে বুঝাচ্ছে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়া। কি হাস্যকর একটি অসুস্থ সমাজে বসবাস করছি আমরা।
কন্টেন্ট মনিটাইজেশন
ফেসবুক কর্মীদের সফলতা হলো এই কন্টেন্ট মনিটাইজেশন। এই কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য মানুষ তার নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো শুধুমাত্র যোগাযোগের জন্য নয় বরং ইনকামের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
তবে হ্যাঁ এই ইনকাম করতে পারতেছে শুধুমাত্র ১% ক্রিয়েটররা। বাকি ৯৯% ক্রিয়েটর শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব সময় নষ্ট করছে এবং এর ফাঁদে পড়ে নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে বিসর্জন দিচ্ছে। অনেকে দেখলাম ভিডিও ভাইরাল করার জন্য নিজস্ব প্রাইভেট মুহূর্তের ভ্লগ আপলোড করে।
এই সমাজের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? – আসলেই চিন্তার বিষয়। আমরা প্রতিনিয়ত এই সস্তা সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছি। আমাদের মানসিক সুস্থতা নষ্ট করে এই ধরনের প্লাটফর্ম গুলোর উন্নয়নে কাজ করছি।
মনিটাইজেশনের লোভে অনেকেই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, অশ্লীল ও নোংরা কনটেন্ট বানাচ্ছে, ব্যক্তিগত জীবনের গোপন বিষয় প্রকাশ করছে, অন্যকে হেয় করে নিজের কনটেন্ট জনপ্রিয় করছে, এছাড়াও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিন্ন করে অনলাইন ফ্যামিলির সাথে সংহতি প্রকাশ করছে।
এগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয় সমাজের ক্ষেত্রেও হুমকি স্বরূপ। এর ফলে আমরা মিথ্যা গ্লামার দেখে প্রতিনিয়ত ডিপ্রেশনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছি। সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ধ্বংস হচ্ছে টাকার লোভে। যুবসমাজের সঠিক পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমছে। সবাই রাতারাতি সেলিব্রিটি হতে চায়।
ফেসবুক লেভেলের ফাঁদ
ফেসবুক নিয়ে আমি তেমন পারদর্শী নই। তবে অনলাইন থেকে ঘাটাঘাটি করে এবং বিভিন্ন জ্ঞানী ও পারদর্শীদের সাথে আলোচনা করে যতটুকু জানলাম তাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করার চেষ্টা করেছি।
ফেসবুকে লেভেলিং বা চ্যালেঞ্জিং এর একটি সিস্টেম রয়েছে। যেখানে ফেসবুক আপনাকে নানান চ্যালেঞ্জ দিবে। যেমন: এক সপ্তাহের মধ্যে ৩টি স্টার পেতে হবে, ১০টি কমেন্ট পেতে হবে এবং ৫টি ছবি ও ২টি ভিডিও আপলোড করতে হবে।
এই ধরনের চ্যালেঞ্জগুলো পূরণের জন্য যুব সমাজ ফেসবুক বা এই জাতীয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে বেশি সময় ব্যয় করে ও কোয়ালিটি ফুল কন্টেন্টের দিকে ফোকাস না করে যেকোনো ধরনের কনটেন্ট আপলোড করতেছে।
আপনি ফেসবুকের পিছনে যত বেশি সময় দিবেন তত বেশি লাভ ফেসবুক কোম্পানির (META)। এবং আপনি শুধু শুধু স্কল করে কিংবা এই ধরনের চ্যালেঞ্জ পূরণের জন্য যেই সময় অপচয় করবেন এটা আপনার লস।
মানুষ স্বভাবগতভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। ফেসবুক এই পয়েন্ট ধরে কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং সিস্টেম চালু রেখেছে। আপনি প্রথম চ্যালেঞ্জ পূরণ করলে লেবেল ২তে যাবেন এবং সেখানে আরো একটু কঠিন চ্যালেঞ্জ দেওয়া হবে।
এভাবে করে লেভেলিং এর ফাঁদে ফেলে আমাদের মূল্যবান সময় গুলো হাতিয়ে নিচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আমাদের ধরিয়ে দিচ্ছে একগাদা ডিপ্রেশন, সেলিব্রিটি হওয়ার নেশা, টাকা ইনকামের নেশা সহ আরো কত কি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে একেবারে ধুলিস্যাৎ করে ফেলেছে।
ক্ষতিকর দিক
আজকে মেয়েরা লাইক, ফলোয়ার আর মনিটাইজেশনের লোভে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করছে, যা স্পষ্টভাবে হারাম। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করো না, যেমন জাহেলিয়াতের যুগে করা হতো।” (সুরা আহযাব: ৩৩)
বর্তমান যুগ জাহেলিয়াতের থেকে কোন অংশেই কম নয়। অতিরিক্ত গ্ল্যামার, বডি শো এবং নাচ-গানের ভিডিও মেয়েদের মানসিকভাবে ভোগবাদী ও আত্মপ্রদর্শনী করে তুলছে। অনেক মেয়ে ভুল পথে গিয়ে শর্টকাটে টাকা কামাতে গিয়ে নিজেকে অনৈতিকতার সাথে জড়িয়ে ফেলছে। এর ফল হতাশা, ডিপ্রেশন, এমনকি আত্মহত্যা।
মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনের সুরা আহযাব ৫৯ নং আয়াতে বলেছেন “হে নবী! তোমার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন নিজেদের ওপর চাদর জড়িয়ে নেয়।”
আর আমরা কি করছি? নিজেদের স্ত্রী, মেয়ে, কিংবা ফ্যামিলির মহিলাদের দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে অন্য মানুষকে (পর পুরুষ) বিনোদিত করার চেষ্টা করছি। একটি সুন্দর সমাজ গঠনে এই কাজগুলো কখনোই শোভনীয় নয়।
আমাদের মেয়ে, স্ত্রী কিংবা ফ্যামিলির অন্যান্য মহিলারা কি করছে এ বিষয়ে পুরুষদের কোন জানার প্রয়োজন নেই। মেয়ের মতন সমান পাপের ভাগীদার হবে ওই পুরুষ। যদি তার স্ত্রী এই ধরনের কাজ করে তাহলে তার স্বামী এই পাপের ভাগীদার হবে। যদি তার মেয়ে এই ধরনের কাজ করে তাহলে মেয়ের বাবা এই পাপের ভাগীদার হবে।
এছাড়াও আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন অশ্লীল মেয়েদের নাচানাচি এবং এই ধরনের বিভিন্ন কনটেন্ট দেখে থাকি। পবিত্র কুরআনে সুরা নূর: ৩০-৩১ নং আয়াতে বলা আছে “মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।”
এই কন্টেন্ট মনিটাইজেশন ভাইরাসের সব থেকে বড় ক্ষতিকর দিক হলো আমাদের চিন্তাশক্তি নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধকে গ্রাস করছে। আমরা হালাল হারাম কিংবা এই ধরনের কোন বিষয়ের তোয়াক্কা করি না। নিজেদের বডি শো অফ করতে ব্যস্ত থাকি।
কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ফাঁদ
বড় টেক কোম্পানিগুলো জানে, “সেক্স সেলস”। তাই তারা মেয়েদেরকে প্ল্যাটফর্মে আনতে ইনসেনটিভ দেয়। Facebook, TikTok, Likee, Bigo মেয়েদের স্ট্রিমিং থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার আয় করে। বিজ্ঞাপনদাতারা নারীদের ছবি ব্যবহার করে ক্লিকবেইট তৈরি করে, যা প্রমাণিতভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রিচ পায়।
একটি রিপোর্টে (Statista 2024) বলা হয়েছে, “গ্লোবাল অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং ইন্ডাস্ট্রির রাজস্ব ২০২৪ সালে $৬২৭ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।” এর বড় অংশ এসেছে নারী-নির্ভর কন্টেন্ট থেকে।
Influencer Marketing Hub Report 2023 – ২০২৩ সালে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রির আকার ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নারী-প্রধান কনটেন্টের হার ৭০% এর বেশি।
UNICEF & WHO রিপোর্ট – অশালীন কন্টেন্ট কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে হতাশা, আত্মপ্রদর্শন প্রবণতা ও অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।
TikTok Transparency Report – TikTok এর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের বড় অংশে মেয়েদের ব্যবহার করে গিফটিং সিস্টেমের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় হয়।
টিকটকের মত ফেসবুকেও এই স্টার তথা গিফট সিস্টেমের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করে নিচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
আমরা ফেসবুকের কাছ থেকে টাকা দিয়ে ষ্টার ক্রয় করি এবং সেই স্টার গুলো আবার আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বিতরণ করি। মধ্য জায়গায় থেকে আমরা যেই পরিমাণে টাকা দিয়ে স্টারগুলো ক্রয় করেছি সেই টাকাগুলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যাচ্ছে। এভাবে আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা খুব সহজেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে দিয়ে দিচ্ছি।
আর বর্তমানে মেয়েরা তো ব্যবসায়িক এলিমেন্ট। এখানে মেয়েরা নিজেদেরকে নিজেরাই পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। ৩ হাজার বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে মেয়েদের দেহ। নারী স্বাধীনতার নামে মেয়েদেরকে নগ্ন করে বিভিন্ন উপায়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল হচ্ছে। এর পিছনে সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
আমার শেষকথা
আমার এই ব্লগটি আপনার কাছে অনেক ব্যাকডেটেড মনে হতে পারে। আমাকে আপনার কাছে গ্রামের চাচাতো ভাই (এখানে কোন গ্রামের মানুষকে অপমান করা হয়নি) মনে হতে পারে। আমি শুধুমাত্র আমার চিন্তা ভাবনা শেয়ার করলাম। এখানে আপনার লাভ কিংবা ক্ষতি আমি হিসাব করিনি।
তবে অনুরোধ করব নিজের মতো করে বিষয়টা ভেবে দেখবেন। কন্টেন্ট মনিটাইজেশনকে বর্তমান সমাজের নতুন মহামারী ভাইরাস কেন বলা হয়েছে।
আমরা যখন প্রথম প্রথম বুঝতে শুরু করি তখনকার পৃথিবী এবং এখনকার পৃথিবীর মধ্যে কি পার্থক্য মিলিয়ে নিবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে এবং এদের তৈরি ট্রাপের মধ্যে প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদেরকে পিষিয়ে পিষিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
সোশ্যাল মিডিয়াকে আমরা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। তবে এগুলো নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াস হওয়া কিংবা এটাকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হিসেবে ধরে নেওয়া নিহাত বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
যাইহোক অনেক বেশি বকবক করে ফেলেছি। যেহেতু আপনি ধৈর্য নিয়ে সম্পূর্ণ লেখাটি দেখেছেন আমি আশা করছি আপনি আমার মনের ভাব, প্রকাশ করতে চাওয়া কথাগুলো বুঝতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
হাতে সময় থাকলে দেখতে পারেনঃ সামাজিক অবক্ষয়? নাকি ভাইরালের নেশা?
– শিহাব কাজী, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ।
প্রথম প্রকাশ ছিল ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ।


