আমরা বাঁচি অন্যের হাসি দেখার জন্য

আমরা বাঁচি অন্যের হাসি দেখার জন্য!

তুমি কি কখনো এমন মানুষ দেখছো, যাদের কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না। নতুন মুভি কবে আসবে, কনসার্ট কোথায় হচ্ছে, আই-ফোনের নতুন ভার্সন কবে লঞ্চ হচ্ছে। না আছে অতিরিক্ত ফ্রেন্ড, না আছে আড্ডা দেওয়ার মতো সার্কেল। এমনকি ঘরের মধ্যে কখন কি হয় এ সম্পর্কেও তার কিছু যায় আসে না।

বাবার কাছে না বাইক চায়, না iphone চায়, না PS5 চায়। নিজের জন্য কোন স্বপ্ন থাকে না। জানে না কোথায় ঘুরতে যাবে, কোন সেলিব্রিটিদের সাথে মেশার ইচ্ছে থাকে না। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য সাধারণ কাজবাজ। নিজের ফোন এবং টুকটাক বই পত্র। দুনিয়ার চোখে ডিসকোয়ালিফাই হওয়ার পরেও অনেক বড় বড় স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকে।

যদি তুমি এরকম হয়ে থাকো তাহলে বুঝতে পারবা আমি কি বলছি। তুমি যে কোন কিছু চাও যেটা নিজে কামানোর জন্য ক্যাপাবল। ফ্যামিলির কাছে না আছে কোন জিদ, না আছে কোন ডিমান্ড। পারলে সহযোগিতা করার চেষ্টা করো।

যদি তুমি এমন হয়ে থাকো তাহলে you are just a beast.

এরকম মানুষদের সোসাইটি তো ছাড়ো, নিজের ফ্যামিলিও বুঝতে পারেনা। কারণ কখনো কেউ এটা বুঝতে পারবে না তোমার ভিতরে কি চলতেছে। আর তুমি এটাকে ভাঙ্গিয়ে বলতেও যাবে না কখনো।

কারণ সবশেষে তুমি এটা জানো “কারো জন্য কিছু যায় আসে না”।

আসলে এটা কোন সমস্যা নয় ভাই, শুধুমাত্র তোমার সার্কেল বা তোমার বয়সের মানুষের থেকে একটু বেশি ম্যাচিউরড। হয়তোবা তুমি তোমার জীবনের অল্প সময়ে অনেক বেশি কিছু দেখে ফেলেছো। তোমার ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন হতে পারে!

এই ধরনের মানুষদের একটা কমন দিক হলো তারা সবাইকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে, সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে। এবং নিজের কাছের মানুষগুলোকে প্রচন্ড ভালোবাসে।

এই মানুষগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর থেকে বিভিন্ন কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়েছে, যেগুলো আজ তাদের ম্যাচিওরিটি লেভেল বাড়িয়ে দিয়েছে। উপরের কথাগুলো যদি তোমার প্রতিচ্ছবি হয়, তাহলে তুমি আসলেই তোমার সার্কেলের থেকে একটু বেশি ম্যাচিউরড।

তোমাকে সবাই ভালবাসবে তবে ভালো চাইবে খুব কম মানুষই। তোমার আশেপাশে অনেক মানুষ থাকবে কিন্তু মন খুলে কথা বলার মতো কোনো মানুষ থাকবে না। তোমার ক্লোজ কোন বন্ধু-বান্ধবও থাকবে না যাদের সাথে তুমি চুটিয়ে আড্ডা দিতে পারবা।

তবে হ্যাঁ, তোমার আশেপাশে কিন্তু অনেক মানুষই থাকবে। সবার সাথেই তোমার ভালো সম্পর্ক থাকবে, দেখা হলে “এই কি অবস্থা কেমন আছো?, দিনকাল কেমন যাচ্ছে? অনেকদিন পর দেখা হল” এই ধরনের ঠুনকো আলাপ হবে। কিন্তু মনের মধ্যে থাকা চাপা কথাগুলো, যেগুলো তুমি হজম করে রেখেছো তা শোনার মত কেউ থাকবে না।

এই ধরনের মানুষগুলোকে আমি ড্রিমার বলি। তারা অন্যকে নিয়ে, ফ্যামিলিকে নিয়ে, কাছের মানুষগুলোকে নিয়ে অনেক বেশি স্বপ্ন দেখে এবং তাদের জন্য কাজ করার চায়। কিন্তু সবশেষে দেখা যায় এই মানুষগুলোই অন্যের চোখে অপদার্থ বা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার সরলতা ও আপন মানসিকতা মনোভাব অনেকে শুধুমাত্র নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে থাকে। এই মানুষগুলো কখনোই নিজের দিকে বা নিজের জন্য চিন্তা করেনা, সবসময় তার পরিবার বা প্রিয় মানুষের জন্য কাজ করে যায়।

আমরা বাঁচি অন্যের হাসি দেখার জন্য,

আমরা বাঁচি প্রিয় মানুষগুলোর স্বপ্ন পূরণের জন্য।

আমরা বাঁচি একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য।

অনেকের জীবনের সাথে উপরের লেখাগুলো মিলে যাবে, কেননা এটি তোমার মত আরেকজনের জীবন থেকেই নেওয়া। তবে “মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটা সৌভাগ্যের”। আমাদের জন্য উপরওয়ালা তো আছেনই। সবকিছু তার উপরেই ছেড়ে দেই…… তিনি না হয় বাকি সিদ্ধান্ত নিবেন।

– শিহাব কাজী, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

প্রথম প্রকাশ ছিল ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *